যাপনবাদ কী?
যাপনবাদ-এ রক্তমাংসের মানুষ এবং তার প্রতিদিনের জীবন – সেটাই একটা মানুষের সব। এবং তা খুব বৈচিত্র্যময়। সে কত নামী, বা কত দামী, কিংবা কত পটু, বা তার কত গুণ আছে, অথবা তার কত পয়সা বা বাড়ি গাড়ি আছে, সে কত বেশি শিক্ষিত, বা তার কত বড়ো কেরিয়ার, কিংবা সে কী করে, অথবা তার কত ক্ষমতা – সেসব বিবেচ্য নয়। মানুষের নিত্যদিনের জীবনকে নানাভাবে বাঁধে নানা রকমের প্রতিষ্ঠান (সরকার, প্রশাসন, আইন-আদালত থেকে শুরু করে আরও নানা কিছু), যা আবার মানুষেরই বানানো এবং মানুষ দিয়ে বানানো। যাপনবাদ মানুষের নিত্যকার জীবনে সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির প্রভাব খর্ব করে।
রক্তমাংসের মানুষ বাসনায় ভরপুর। তার বাসনা তাকে নিজের দৈনন্দিন-এর সীমা লঙ্ঘন করায়। সে নানা কিছু পায়, নানা কিছু শেখে, নানা কিছুতে দক্ষতা তৈরি করে, নানা কিছু করে বাসনায় ভর করে দৈনন্দিনকে পেরিয়ে গিয়ে সে তৈরি করে উদবৃত্ত, যাপনবাদ-এ উদবৃত্তের ভাণ্ড উপুড় হয় সমাজে – অর্থাৎ বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবন-এ।
দিনের একটা বড়ো সময় যায় নিজেদের ভাত কাপড় ঘরদোর-এর জন্য উপার্জন করতে। এই উপার্জনে নিযুক্ত সময় যত কমে, তত মানুষ নিজের ইচ্ছেমতো কাজকম্মো চলা ফেরা করতে পারে। যাপনবাদ-এ ভাত কাপড় ঘরদোর-এর চাহিদা পূর্ণ করতে পারার মতো উপার্জন যেমন জরুরি, তার চেয়েও জরুরি দিনের মধ্যে উপার্জনে ব্যয় হওয়া সময় কমানো।
রক্তমাংসের মানুষের পারস্পরিক হিংসা ঈর্ষা দ্বেষ বিদ্বেষও কম নয়। যাপনবাদ এই বিদ্বেষকে সমাজের মধ্যেকার অসমতা দূর করার কাজে লাগায়।
