যাপনবাদ : কিছু সংশয়

যাপনবাদ-এর প্রস্তাবকদের মধ্যে একটি পত্রালাপ। যেখানে প্রথমজন কিছু সংশয় ব্যক্ত করছেন। আর দ্বিতীয়জন তার উত্তর দিচ্ছেন। হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া এই পত্রালাপটি ২০২২ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ের।

সৌ :

যাপনবাদ নিয়ে ব্যাক্তিগত সমালােচনা আমি এখন করতে পারছি না। যেহেতু এই বয়ান তৈরির সাথে আমি জড়িয়ে ছিলাম কাজেই যা সমালােচনা করার আগে করে ফেলেছি। কিছু অংশ আছে যেগুলাে আমার পড়াশােনার অভাবের কারণে আমি খুব ভালাে বুঝি নি। সেই সব নিয়ে মত দিতে আমার খানিকটা সময় লাগবে।

তবে যাপনবাদ নিয়ে আমার কিছু বলার আছে। এই কথাগুলাে এরকম যে কোনাে বয়ান নিয়েই বলতে পারি। কথাগুলাে এই ধরনের বয়ান বা তত্ত্বের আমাদের দেশে বা রাজ্যে প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে। আমি মনে করি সমাজের যে পর্যায়ে এই ধরনের তত্ত্ব গুলাে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে আমাদের দেশের সমাজ সেই পর্যায়ে পৌঁছতে পারে নি। চিন্তা ভাবনার এই দিকটার নিরীখে একশ বছর আগের ইউরােপের সমাজের চাইতেও আমরা পিছিয়ে আছি। এখানে একটা কথা স্বীকার করে নেওয়া ভালাে যে গােটা দেশের সমাজের খুব সামান্য অংশের সাথেই আমার প্রত্যক্ষ যােগাযােগ হয়েছে, কাজেই এই সিদ্ধান্ত নিতে অল্প বিস্তর ভুল হয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ শিক্ষিত পাঞ্জাবি যুবক কি ভাবছে, কিভাবে ভাবছে আমি সেটা সরাসরি জানি না।

এই সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি নিয়েও আমি দুই ধরনের সমস্যার কথা বলতে চাই। প্রথম দলে ভারতের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ পড়বেন। এরা নাগরিক সভ্যতা ও নাগরিক চিন্তা ভাবনা থেকে অনেকটা দূরে আছেন| এই নাগরিক সভ্যতা ও চিন্তা বলতে আমি শিল্পবিপ্লবের কাছাকাছি সময় থেকে যে ইউরােপীয় চিন্তাধারার বিকাশ শুরু হয় তার কথা বলছি। মূলত এই মানুষেরা সামন্ততান্ত্রিক চিন্তা ভাবনার একটা কাঠামােতে আটকে আছেন যাপনবাদ শুধু নয় নাগরিক চিন্তার কোনাে ধারাই এদের স্পর্শ করতে পারে না। যাপনবাদের নিরীখে এদের মনাে সামাজিক স্তরটাই অন্যরকম।

দ্বিতীয় অংশের সমস্যাটা জটিলতর। উচ্চশিক্ষিত (সব সময় ডিগ্রির দিক থেকে নয়) মধ্যবিত্ত মানুষ। আমি বাঙালির কথা বলি, কারণ আমার অভিজ্ঞতা এদের নিয়ে বেশি। এরা বহুদিন ধরে নাগরিক চিন্তা করে আসছেন, ফলে এদের একটা শ্লাঘা আছে যে আধুনিক চিন্তায় তাদের একটা দখল আছে। আমি মনে করছি এই দলের একজন গড়পড়তা মানুষও নাগরিক চিন্তা করতে পারেন না। এই যে চিন্তা প্রক্রিয়া তার সাথে পড়াশােনার খুব সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক আছে যাপনের। যে দেশের শতকরা নববই ভাগ মানুষ একশ দেড়শ বছর আগে আটকে আছেন সে দেশের বাকি দশভাগ মানুষও খুব এগিয়ে যেতে পারেন না। কিন্তু বিশেষ করে বাংলায় একটা বৈপ্লবিক ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সেটা খুব অল্প মানুষের মধ্যেই সীমিত ছিল, যেটাকে আমরা বাংলার রেনেসাঁ বলি। এটা একটা অদ্ভুত ঘটনা, যেটা সমাজের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও চিন্তা ভাবনার ধারায় একটা পরিবর্তন এনে দেয়। আজকে যে এসব বিষয় নিয়ে আমরা এত কথা বলার কথা ভাবতে পারছি এটা সরাসরি সরি রেনেসাঁর ফসল। আবার কৃত্রিম ছিল বলেই খুব দ্রুত সেই বিপ্লবে ভাঁটা পরে আর ভাঁটার তবে শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত কিন্তু তার আধুনিকতা খানিকটা হারিয়েই ফেলেছে। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সেটা চোখে পড়ছে। আজকের বাংলা সিনেমা, বই পত্র, সিরিয়াল, গান, তর্ক, আড়া পঞ্চাশ বছর আগের বাঙালি কাজকর্মের থেকে অনেক কম নাগরিক, কম আধুনিক। যে বাঙালি আধুনিক বাংলা গানের জন্ম দিয়েছিল, যেটা তার সময়ের থেকে পঞ্চাশ বছর এগিয়ে ছিল, যেখানে সুর আর ভাষার এমন মিশ্রণ হয়েছিল যেটা পৃথিবীতে কোথাও হয় নি সে বাঙালি ভােজপুরি গানের সুরের সাথে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে, ভােজপুরি কায়দায় হাত পা ছুড়ে বিয়েতে নাচছে। এসবের নানা কারণ আছে, অনেকরকম ব্যাখ্যা হয়, সে কথা আলাদা। আমি মনে করি যে একটা কৃত্রিম ভাবে ইউরােপীয় সভ্যতার ধাক্কায় তৈরি হওয়া রেনেসাঁ খুব অল্প লােকের মধ্যে আটকে যাবার পর যেই তার জোড় কমে গেলাে তাকে একটা ধাক্কা খেতে হল। এতদিন যাদের নিজেদের আধুনিকতার ধুয়াে তুলে তাচ্ছিল্য করে গ্যাছে, তাদের সামনে পড়ে ভয় পেয়ে গেলাে। কৃত্রিম রং চটে গিয়ে চামড়ার আসল রং বেড়িয়ে পড়লাে।

এইসব পর্যালােচনা করতেই হবে, আমি আমার মত করে বলেছি, এগুলাে কোনাে স্থির সিদ্ধান্ত নয়। এতদিনের চর্চার পরও মার্ক্স কে বাঙালি নিতে পারলাে। না?

আমি এগুলাে তত্ত্ব থেকে বলছি না, ফিজিক্স পড়াতে গিয়ে, কবিতা পড়তে গিয়ে, ছবি বা সিনেমা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে, আডডা দিতে গিয়ে, অনেক বাঙালির আত্মজীবনী বা স্মৃতিচারণ পরে, বাবা কাকার গল্পো থেকে, নিজের বন্ধুদের, ভাইদের দেখে আমার মনে হয়েছে যে সমাজের যে অংশটা একমাত্র যাপনবাদ চর্চায় অংশ নিতে পারত তারা এখন গড়গড়িয়ে উল্টো দিকে যাচ্ছে, পঞ্চাশ বছর আগেকার আধুনিকতার স্মৃতিটুকুও তাদের নেই।

আমি যাপনবাদ কে discourage করছি না, আমি এই সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে কি করে এগােব তাই ভাবছি। আমি নিশ্চিত যে যাপনবাদ নিয়ে যেটুকু আলােচনা সমালােচনা আমরা শুনবাে তার অনেকটা হবে অ্যাকাডেমিক, শুনতে দারুন লাগবে, ভেতরে কিছু থাকবে না। যেমন হয়েছিল আমাদের ভার্চুয়াল আলােচনা তে| পন্ডিত পাওয়া যায়, যারা অনেকটা সত্যি পড়েছে, কিন্তু সে আরেক নিরস ব্যাপার!

শ:

তুমি যে কনসার্নটা ব্যক্ত করছ – সেটা আমারও কনসার্ন। বলা ভালো, সেটা আমাদের মতো লোকেদের, যারা দুনিয়া বদলের স্বপ্ন দেখি, তাদের সবারই কনসার্ন। সেটা হল, আমাদের কথাবার্তা কি সময়োপযোগী? এই কনসার্ন কার ছিল না? স্বয়ং মার্ক্সের মধ্যে এই কনসার্ন ছিল। জীবনের একদম শুরুর দিকে জিউইশ কোশ্চেন-এ সম্ভবতঃ দেখেছি, বলেছে, আমরা এখন যে রাজনৈতিক লড়াইটার কথা বলছি, সেটায় বিজয় অর্জন হলে তবে ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে পারবে মানুষ। আবার নিজেই লিখেছে কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো। গোথা কর্মসূচীতে লিখেছে, বুর্জোয়াদের সঙ্গে গণতন্ত্রের লড়াইতে বিজয়ী হতে হবে আমাদের। তারপর মধ্যবয়সে এঙ্গেলসকে লিখেছে চিঠিতে, এখন বুর্জোয়ারা ইউরোপ বাদে অন্য জায়গায় উঠছে, এখন ওদের সঙ্গে ইউরোপেও পেরে ওঠা মুশকিল। তারপর প্যারি কমিউন দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠে বলছে, ওই তো দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র শুকিয়ে গেলে কী হবে, কীভাবে সাম্যবাদের অন্তিম বিজয় অর্জন সম্ভব। আবার একইসাথে লিখছে, প্যারি কমিউন হেরে যাওয়ার কারণ, ফ্রান্সের কৃষকরা এই সাম্যবাদের জন্য প্রস্তুত ছিল না। সে সময় এই ইপোকালিটি বা ঐতিহাসিকতা ছিল মার্ক্সবাদের একটা বড়ো বৈশিষ্ট্য, যা মার্ক্স নিজেই আমদানি করেছিল। আবার এইটিন্থ ব্রুমেয়ারে লিখছে, শ্রমিকশ্রেণী বার বার হেরে যাবে, ফের উঠে দাঁড়াবে। অর্থাৎ, শ্রমিক শ্রেণীর অভ্যুত্থান ইপকালিটি মানে না।

তারপর থেকে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি মোটামুটি এই ইপকালিটি মেনে চলেছে। মার্ক্স বলেছিল, প্রথমে শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্ব (বিপ্লব বা ভোটে জিতে), তারপর সমাজতন্ত্র (রাষ্ট্র ট্রাঞ্জিটরি ফেজ-এ), তারপর সাম্যবাদ (রাষ্ট্র থাকবে না)। লেনিন বলেছিলেন, প্রথমে গণতান্ত্রিক বিপ্লব যেটাতে প্রাক-বুর্জোয়া সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র ভাঙবে, তারপর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব, তারপর সমাজতন্ত্র, তারপর সাম্যবাদ। আশ্চর্য্যের ব্যাপার হল, রাশিয়ায় জার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল এপ্রিলে, আর তখনই কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বিপ্লব অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্ল্যান করে ফেলেছিলেন লেনিন যা পার্টির কেউ সাপোর্ট করেনি প্রথমে, পরে আস্তে আস্তে মেনে নেয় সবাই (এপ্রিল থিসিস)। অর্থাৎ, লেনিনের তর সয়নি। তর যে সয়নি, সেটা বোঝা যায়, রাশিয়া ও ইউক্রেণের কসাক অধ্যুষিত এলাকায় বলপূর্বক নানা সমাজতান্ত্রিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়ে নেওয়ার মধ্যেও। অর্থাৎ, ইপকালিটির কথা স্বীকার করলেও জনগণের আন্দোলনের ঢেউ দেখে আর তর সয়নি লেনিন-এর। পরে নিউ ইকনমিক পলিসি এনে ম্যানেজ করতে হয়েছিল, তারপর মারা গেছিলেন। স্টালিনও বার বার সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচী নিয়ে জোরজার করা সত্ত্বেও সফল করতে পারেননি। পেছিয়ে এসেছিলেন। মাও সে তুং -ও বিপ্লব স্তরীভূত করেছিলেন। তারপর বিপ্লবের বিশ বছর পর আবার বিপ্লব করার ডাক দিয়েছিলেন, তখন পার্টি ওকে অসুস্থ বলেছিল সম্ভবতঃ। আমাদের এখানে সমাজপরিবর্তনকামী সমস্ত আলোচনায় এই ইপোকালিটি বা ঐতিহাসিকতার কথা আছে।

বামপন্থার এই ঐতিহাসিকতাবাদ এর প্রথম ছেদ আমি পাই দেল্যুজ-এর নিৎশে কে নিয়ে আলোচনায়। নিৎশে মার্ক্সের সমসাময়িক প্রায়। নিৎশে-র একটা তত্ত্ব ছিল, এটারনাল রিটার্ন। দেল্যুজ সেটার সাহায্য নিয়েছিলেন, তারপর আলোচনায় এনেছিলেন রিপিটিশন বা পুনরাবৃত্তি। এসবের মধ্যে দিয়ে ইপকালিটিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন দেল্যুজ। বলেছিলেন, সত্যিকারের রিপিটিশন হল ডিফারেন্স। প্রায় বলেই দিয়েছিলেন, সবকিছুই সবসময়ই সবজায়গাতেই সম্ভব। অন্ততঃ সেরকমই বলেছিলেন বলে বুঝেছিলাম। শুধু রূপ আলাদা হয়। বয়ান আলাদা হয়। ওইজন্যই আমি তোমায় বলেছিলাম ট্রান্সলেশনের কথা। নানারকম ট্রান্সলেশন।

দেল্যুজ-এ আমি আরেকটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ দিক পাই। সেটা হল, বিষয়ী বলে কিছু নেই। মার্ক্সের কল্পনায় সমাজ বদলের বিষয়ী ছিল শ্রমিকশ্রেণী। মাও-সে-তুং সেটায় বদল ঘটান, তিনি বলেন, বিষয়ী হল শ্রমিক-কৃষক-জাতীয় বুর্জোয়ার ঐক্য হল বিষয়ী। ফুকোর বিষয়ী হল সেই মানুষ যে ক্ষমতাকে প্রতিরোধ করছে। দেল্যুজ বিষয়ীকে নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, মানুষ আবার কী? আমি আবার কী? আমি তো হলাম আমাদের কোটি কোটি কোষ, কলা, অঙ্গ দিয়ে নির্মাণ। সব্বাই বিষয়ী। এটাকে উনি একটা নাম দিয়েছিলেন, লার্ভাল সাবজেক্ট। বা লার্ভাল বিষয়ী। অর্থাৎ, আমি-টা লক্ষ লক্ষ আমি দিয়ে তৈরি। ব্যক্তি মানুষ একটা অবয়ব, কিন্তু সে সমাজবদলের বিষয়ী কখনোই নয়। সিমন্দ একটু অন্যরকমভাবে একটা বিষয়ী খাড়া করেছিলেন, ট্রান্সইন্ডিভিজুয়াল, যা এতটাই ভাঙাচোরা এবং মেলানো মেশানো যে তাকে বিষয়ী ভাবাই মুশকিল। তারপর সে ব্যক্তির অবয়ব না-ও হতে পারে। কখনও দেখা যায় একটা গোষ্ঠীই হল ট্রান্সইন্ডিভিজুয়াল সাবজেক্ট। বলেছিলেন, ইন্ডিভিজুয়েটিং — এই দশাটাই হল সাবজেক্ট বা বিষয়ী। অর্থাৎ, একটা অবয়ব নিচ্ছে, ব্যক্তির, সেটাই বিষয়ী। গতিশীল বিষয়ী। এসব পড়ার পর আমি মোটামুটি আমি ব্যক্তির ওপর আস্থা রাখা ছেড়ে দিই, গোষ্ঠীর ওপরও। বুঝতে পারি, আজ যে লোকটা প্রগতিশীল কথা বলছে, কালই সে নানা বাজে কথা বলতে পারে। এটা স্বাভাবিক। তাহলে জনগণ কী? জনগণ হল কিছু মুহুর্তের সমাহার, যে মুহুর্তটা আমার এবং আরেকজনের মধ্যে কোনও সিঙ্গুলার কিছু ঘটছে। জনগণ এইধরনের সিঙ্গুলারিটির সমাহার। ব্যস।

এছাড়াও আরেকটা জিনিস, দেল্যুজ-এ পাই, যা আমার মধ্যে আশাবাদের সঞ্চার করেছিল, সেটা হল প্রবলেমাটাইজেশন। এখনও আমি এটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। ডায়লেকটিক্স যে গতির সূত্র হিসেবে ভুল, সেটা আমার আগেই ক্লিয়ার ছিল, কিন্তু গতির সূত্র কী? তাহলে কি সমাজের মধ্যে গতি সঞ্চার করা যায় না? তাহলে তো অ্যাক্টিভিজমের জায়গাই থাকে না। কিছু ক্যাম্পেন জারি রাখলেই হয়। লোকে যেদিন নেবে, নেবে। না নিলে না নেবে। দেল্যুজ লিবনিজকে ধরে প্রবলেমাটাইজেশনের তত্ত্ব দিয়েছিল, যা আসলে মাল্টিলেক্টিক্স। তাতে বলা ছিল মোটামুটি এরকম — তুমি যা করবে, যদি ডেঁটে করো, তবে সেটাই পরিস্থিতিকে সমস্যায়িত করবে। রিগ্রেসিভ প্রগ্রেসিভ বলে কিছু হয় না। ওই সমস্যায়িত করাটাই আসল। সেটাই গতি। অর্থাৎ, নানা ধরনের যাপন পরিস্থিতিকে সমস্যায়িত করে গতিসঞ্চার করে। কোনও পরিস্থিতিতেই ঘাবড়িও না। যেভাবে হোক, কীভাবে তুমি সমস্যায়িত করতে পারো কোনওভাবে, সেটা দেখো। ব্যস, গতিসঞ্চারিত হবে, এবং গড়াবে।

এই তিনটে জিনিসের প্রতি যদি আমার নজর না পড়ত, আমি রাজনীতি টিতি ছেড়ে দিতাম ২০১৫ সালে। আমি তোমার কনসার্নগুলোর সঙ্গে এবং অবজার্ভেশনগুলোর সঙ্গে সহমত। জ্ঞানের কোনও বিকাশ আমাদের এখানে হয়নি বহুদিন। ফলে জ্ঞানের দিক থেকে “কী করিতে হইবে” দাঁড় করাতে গেলে বা আদর্শের বয়ান রচনা করতে গেলে আমরা ইউরোপের দিকে তাকাতে বাধ্য। কিন্তু তার নানা রকম প্রয়োগ এখানে যে সম্ভব তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বয়ানটা খুব কম লোক পড়বে, বা বুঝবে। খুবই কম লোক। কারণ যারাও বা পড়তে পারত, তারা পেছনপাকা হয়ে গেছে। তাতে খুব কিছু এসে যায় না। বয়ানটাকে তুমি যেটা বলেছিলে, ৫০০ পাতার বই, সেটা বানানো দরকার। আপাততঃ ওটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে আমার মনে হয়। সেইটা বানানো যাবে না যদি না কিছু লোক এটাকে অন্ততঃ কিছুটাও না পড়ে। সেই জন্যই পড়ানোর চেষ্টা। যদি আধপাতা পড়েও কিছু কমেন্ট করে, সেটা থেকেও আমরা কোনও পয়েন্ট পেতে পারি এলাবোরেশনের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *