শ্রীলঙ্কার আমজনতা এক অভূতপূর্ব কাজ করে ফেলেছে বলে শোনা যাচ্ছে। তারা যা করেছে, তাকে ওখানকার কর্তাব্যক্তিরা বলছে, রেভলিউশন। মানে বিপ্লব।

শ্রীলঙ্কায় নাকি অনেকদিন ধরেই অর্থনীতি টালমাটাল। ২০০৯ সাল অব্দি তামিল জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সরকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়েছিল। ভারত, জাপান, আমেরিকা ইত্যাদি — এরা তো ছিলই, তার ওপর শেষ ক’বছরে চীনের প্রত্যক্ষ সাহায্য পেয়ে তামিল জাতীয়তাবাদী সংগঠন এলটিটিই-কে শেষ করে দিতে সক্ষম হয় শ্রীলঙ্কা রাষ্ট্র তথা সেনাবাহিনী। কিন্তু এলটিটিই-র সঙ্গে যুদ্ধ জিতলেও এই যুদ্ধের আনুষঙ্গিক খরচ সামলাতে বিদেশী ব্যাঙ্ক, রাষ্ট্র এবং কর্পোরেট লগ্নি সংস্থার কাছে হাত পাততে হয়েছিল। শোনা যায়, দক্ষিণ শ্রীলঙ্কায় হামবানটোটায় একটা গোটা বন্দর নাকি চিনকে দিয়ে দিতে হয়েছিল। যত দিন গেছে, এই ঋণের পরিমাণ বাড়তেই থেকেছে, কারণ এই ঋণগুলি একেকটি ফাঁদ। একবার ধরলে আর ছাড়ে না। গত দশকে খরচ ও বিদেশী ধারের কিস্তি শোধ করতে কর্পোরেট লগ্নি সংস্থাগুলির কাছে ঋণ নেওয়া বাড়তেই থাকে। এই কর্পোরেট লগ্নিসংস্থাগুলি অনেক বেশি টাকা ধার দেয়, কিন্তু এগুলোর সুদের হার বেশি থাকে ও কম সময়ের মধ্যে শোধ দিতে হয়। অপরপক্ষে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে ধার নিলে শোধ দেবার ব্যাপারে কিছুটা নমনীয়তা পাওয়া গেলেও তার অনেক শর্ত থাকে, যাতে ঋণগ্রহীতা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে টানাটানি পড়ে।
যাই হোক, শুধু ধার নয়, করোনা অতিমারির লকডাউনে শ্রীলঙ্কার নিজস্ব অর্থনীতি ভয়ঙ্কর ক্ষতির মুখে পড়ে। পর্যটন বন্ধ হয়ে যায়, চা রপ্তানিতে ভাঁটা পড়ে। মুদ্রাভাণ্ডারের লয় ঠেকাতে শাসক রাজাপক্ষ জমানা অনেক কিছু আমদানির ওপর বিধিনিষেধ জারি করে — বিদেশী গাড়ি থেকে শুরু করে ইউরিয়া অবদি। কিন্তু তার ফলে দেশে সারের কালোবাজারি শুরু হবার ফলে সিন্থেটিক সার-বিষের ব্যবহারই নিষিদ্ধ করে দেয়। এর ফলে চাষিরা বিক্ষোভ করে এবং দেখা যায় চাষের উৎপাদন অনেক কমে গেছে এবং খাদ্যসঙ্কট দেখা যায়, খাদ্যদ্রব্যের দাম অনেক বেড়ে যায়। এই অবস্থায় ঋণশোধের জন্য চাপ বাড়তে থাকে একদিকে, অন্যদিকে অর্থনীতির খারাপ অবস্থার কারণে (পরিভাষায় অর্থনীতির রেটিং কমে যাবার কারণে) বিদেশী ব্যাঙ্ক, রাষ্ট্র ও লগ্নিসংস্থাগুলি আর ধার দিতে অস্বীকার করে, বিশেষ করে লগ্নীসংস্থাগুলি। এই নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। অপরদিকে দেশে খাদ্যাভাব, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারি ইত্যাদি মিলিয়ে অবস্থা সঙিন হয়ে দাঁড়ায়।
২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে কমবয়সীদের দখল আন্দোলন (২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় শুরু হয়েছিল দখল আন্দোলন। তার ঘোষণাপত্র পাওয়া যাবে এই লিঙ্ক-এ ) শুরু হয় শ্রীলঙ্কার নানা জায়গায়। তাঁবু খাটিয়ে হাজার হাজার লোক বসে যায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে সেগুলি সংগঠিত হচ্ছিল। কখনও তাদের মূল স্লোগান হয় “গোটাগোগামা” বা প্রেসিডেন্ট গোটাভায়া রাজাপক্ষ বাড়ি যাও। কখনও তাদের স্লোগান হয় “ময়নাগোগামা” মানে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষ বাড়ি যাও। কখনও তারা স্লোগান দেয় “হোরুগোগামা” মানে চোরেরা বাড়ি যাও।
উল্লেখ্য, এই যে রাজাপক্ষ পরিবার, এরা দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার হামবানটোটা জেলার জমিদার পরিবার, হামবানটোটার চাষাবাদ ও ব্যাবসা বাণিজ্যের ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বের সুবাদে গত শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকেই এরা শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রক্ষমতা তথা রাজনীতির বড়োসরো অছি বা দখলদার। শ্রীলঙ্কার জাতীয় রাজনীতিতে এদের পুনরুত্থান হয় ২০০৫ সালে, বিশ্বায়ন-উত্তর দক্ষিণ এশিয়ায় দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার হামবানটোটা বন্দরের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। মাহিন্দা রাজাপক্ষ ওই সময় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার ভাই অথবা দাদা গোটাভায়া রাজাপক্ষ শ্রীলঙ্কার সেনার দায়িত্ব পান এবং এদের হাতযশেই নাকি এলটিটিই নিকেশ হয় এবং তামিলদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার সংগঠিত হয়। গত দেড়-দু দশকের শ্রীলঙ্কার রাজনীতি ছেয়ে থেকেছে সিংহলী-বৌদ্ধ উগ্রজাতীয়তাবাদ-এ। প্রথমে তার শিকার হয়েছে তামিলরা (জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ – মূলতঃ উত্তর ও পূর্বের অঞ্চলগুলিতে বাস), তারপর গত এক দশক ধরে এর শিকার হচ্ছে মুসলিমরা (জনসংখ্যার ১০ শতাংশ)। এই ফ্যাসিবাদের প্রধান মুখ এই রাজাপক্ষ পরিবার। শ্রীলঙ্কার শিল্প-বাণিজ্য থেকে শুরু করে রাজনীতি — নিরঙ্কুশ দখল এই পরিবারের। অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ এদের বিরুদ্ধে। নির্বাচনে হেরে গেলেও এরা ঠিক ফিরে আসে, যেমন হয়েছিল কয়েকবছর আগে। ফলে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রক্ষমতা গত দেড় দু দশক ধরে এই রাজাপক্ষ জমানা দিয়ে কলুষিত-ও বটে। ফলে গণতান্ত্রিক ক্ষমতার চাহিদা রয়েছে শ্রীলঙ্কার জনতার। কমবয়সীদের এই দখল আন্দোলন বা প্রতিবাদী আন্দোলনে “… বাড়ি যাও” বা “… গ্রামে ফিরে যাও” স্লোগান হয়ত এই কারণেই।
তথ্যের বিস্তারে আর যাচ্ছি না। তথ্যের চুলচেরা বিচার হতেই থাকবে। বরং প্রশ্নগুলো করা যাক। প্রশ্ন হল — এখন কী? প্রতিবাদী জনতা প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ ঘেরাও করেছে। সাত-আটজন মন্ত্রীর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। হামবানটোটায় রাজাপক্ষদের জমিদারি প্রাসাদে আগুন দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কা শুধু আমাদের প্রতিবেশী দেশ নয়, তার সঙ্গে আমাদের অনেককিছুই মেলে। আমাদের বাঙালিদের জিনের সঙ্গে সিংহলীদের জিন নাকি আশি শতাংশ মেলে। মুখ চোখ চেহারারও মিল আছে। আমাদের অতিকথাগুলোতে আছে পুরনো স্বর্ণলঙ্কার কথা, ইতিহাসে আছে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা। আমরা তো নানা দেশ সেখানকার নানা আন্দোলন নিয়ে কথা বলি নানা সময়। এই সময়ের টালমাটাল শ্রীলঙ্কা নিয়েও কি আমরা কিছু কল্পনা করতে পারি?
আমরা জানি না, শ্রীলঙ্কার প্রতিবাদী জনতা এখন কী নিয়ে আলোচনা করছে। আমাদের কাছে যা দূর থেকে দেখা, তাদের কাছে তা দৈনন্দিন যাপন। দূর থেকে বলার সীমাবদ্ধতা নিয়েই বলছি — শ্রীলঙ্কার জনতা এই টালমাটাল মুহুর্তে সমতার কথা আলোচনায় আনতে পারে (যাপনবাদ-এর বয়ান-এ এবং সমতার ইস্তাহার-এ সমতা বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে) । কিছু উদাহরন নিচে দেওয়া হল :
১) সমস্ত বিদেশী ঋণ বাতিল ঘোষণা করা (অবশ্য, এপ্রিল মাসে আন্দোলনের চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কার বিদায়ী রাজাপক্ষ সরকার ৫১ বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধ দেওয়া যাবে না বলে ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার নমিনাল জিডিপি এখন ৮০ বিলিয়ন ডলারের মতো।) । সওয়া দুই কোটি মানুষের দ্বীপটিকে চিরকাল সৈন্য দিয়ে এবং ঋণের জালে ফাঁসিয়ে শোষণ করে এসেছে ভারত, চীন, জাপান, আমেরিকা সহ নানা শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং অর্থলগ্নি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক। অর্থনীতি তো আসলে সামাজিক পরিপাকতন্ত্র — উৎপাদন/পরিষেবা, বন্টন, ভোগ। দেশের ‘অর্থনীতি’ কে পর্যটন ও রপ্তানি নির্ভর না করে রেখে আভ্যন্তরীন সামাজিক পরিপাকতন্ত্র হিসেবে পুনর্গঠিত করা।
২) কোটির ওপর বাৎসরিক আয় হলেই, সে কর্পোরেট সংস্থা হোক বা ব্যক্তি, সম্পত্তি কর চাপানো যার হার আয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে (এপ্রিল মাসে আন্দোলন ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কার বিদায়ী রাজাপক্ষ সরকার ২০০ কোটি শ্রীলঙ্কান টাকার বেশি যারা আয় করেছে গত আর্থিক বছরে, ব্যক্তি বা সংস্থা, তাদের ওপর ২৫ শতাংশ হারে সম্পত্তি কর চাপিয়েছে, কিন্তু তা একেবারেই যথেষ্ট নয়)। শ্রীলঙ্কায় আর্থিক অসমতা প্রবল। দেশের ১ শতাংশ অতিধনীর হাতে রয়েছে দেশের তিরিশ শতাংশের ওপর সম্পদের মালিকানা। দেশের ১০ শতাংশ ধনীর হাতে রয়েছে দেশের ৬৫ শতাংশ সম্পদের মালিকানা।
৩) শ্রীলঙ্কার ন্যুনতম বাৎসরিক পারিশ্রমিকের সঙ্গে সর্বোচ্চ বাৎসরিক পারিশ্রমিকের তফাত অনেক। বেতনভোগীদের ১০ শতাংশ ওপরতলার গড় বাৎসরিক বেতনের তুলনায় ন্যুনতম বাৎসরিক বেতন পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ। বেতনভোগীদের ১ শতাংশ অতি-ওপরতলার গড় বাৎসরিক বেতনের তুলনায় ন্যুনতম বাৎসরিক বেতন পাঁচ হাজার ভাগের এক ভাগ। সমতার দাবি হল — দেশের ন্যুনতম বাৎসরিক পারিশ্রমিক সর্বোচ্চ বাৎসরিক পারিশ্রমিক-এর তুলনায় কখনোই পাঁচ ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম হতে পারবে না। এই জন্য ন্যুনতম বাৎসরিক পারিশ্রমিক কিছু বাড়ানো যেমন জরুরি, আরো বেশি জরুরি সর্বোচ্চ বাৎসরিক পারিশ্রমিক অনেক বেশি কমিয়ে আনা। বেতনভোগীদের ওপরতলা ও অতি-ওপরতলার বেতন অনেক অনেক কমানো যেতে পারে। এবং একইসাথে কাজের সময় কমানোও প্রয়োজন।
৪) শ্রীলঙ্কায় প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের অর্থনৈতিক কাজে যোগ দেবার পরিমাণ মাত্র ৩০ শতাংশ এবং তা ২০০০ সাল থেকে (৩৬ শতাংশ) লাগাতার কমছে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের অর্থনৈতিক কাজে যোগ দেবার পরিমাণ ৭৫ শতাংশের মতো। সমস্ত কাজে মেয়েদের যোগ দেবার উপযুক্ত পরিবেশ ও সংরক্ষণ সমতার দাবি। সাধারণভাবে কাজের সময় কমানো ও ছুটি বাড়ানো মেয়েদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির সহায়ক, একইসাথে তা সবার জন্যই উপযোগী। কাজের জন্য বাঁচা নয়, বাঁচার জন্য কাজ।
৫) শ্রীলঙ্কায় ৭৫ শতাংশ মানুষ ভাষাগতভাবে সিংহলী ও ধর্মে মূলতঃ বৌদ্ধ। অপরপক্ষে প্রায় পনেরো শতাংশ তামিল ভাষাভাষি ও মূলতঃ হিন্দু, এবং দশ শতাংশের মতো মুসলিম, যাদের আলাদা করে কোনও ভাষা নেই, যে অঞ্চলে থাকে সেখানকার ভাষায় কথা বলে। সিংহলী-বৌদ্ধ উগ্রজাতীয়তাবাদের কারণে অন্যান্য ভাষাভাষি ও ধর্মের মানুষদের কোণঠাসা অবস্থা। এলাকাগতভাবে সমস্ত চাকরি, ব্যবসা ইত্যাদিতে তাদের সংখ্যানুপাতিক অংশীদারীর উপযুক্ত পরিবেশ ও সংরক্ষণ সমতার গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
৬) শ্রীলঙকার জাতীয় আয়-এ পুঁজির ভাগের তুলনায় শ্রমের ভাগ অনেক বেশি, যদিও গত দশকে এই ভাগ বাড়েনি তো বটেই, কমেছেই সম্ভবতঃ (তার আগের দশকে বেড়েছিল)। উত্তর-বিশ্বায়ন একটি সামগ্রিক প্রবণতা হল — ধনী দেশগুলির জাতীয় আয়-এ পুঁজির ভাগ শ্রমের ভাগের তুলনায় বেড়ে চলেছে। এবং গরীব ও মাঝারি দেশগুলির জাতীয় আয়-এ পুঁজির ভাগের তুলনায় শ্রমের ভাগ কোথাও একই থাকছে, কোথাও কমছে সামান্য, কোথাও সামান্য বাড়ছে। এটা একটা বৈশ্বিক অসমতাকে দেখায়। সেটা হল — বিশ্বায়নের মধ্যে দিয়ে ধনী দেশগুলির টাকা খাটছে গরীব ও মাঝারি দেশগুলিতে এবং বেশি বেশি লাভ হস্তগত করছে তারা। যদিও সাধারণভাবে জাতীয় আয়-এ শ্রমের ভাগ বাড়া অত্যন্ত ভালো প্রবণতা, কিন্তু তা যদি পুঁজির ভাগ-এর বিদেশগমন-এর মধ্যে দিয়ে হয়, তাহলে তা আসলে শ্রমের ভাগ বাড়া-কে দেখায় না। শ্রমের ভাগের একটা বিকৃত বৃদ্ধিকে দেখায়। শ্রীলঙ্কা সম্ভবতঃ তার ব্যতিক্রম নয়। এমনিতেই শ্রীলঙ্কার আমদানির পরিমাণ রপ্তানির চেয়ে বেশি এবং এই ট্রেড ডেফিসিট নমিনাল জিডিপি-র ১৫ শতাংশের মতো (গত পাঁচ ছয় বছরের হিসেব)। ফলে দামী জিনিস আমদানির পরিমাণ কমানোর দাবি, অর্থাৎ, ধনী ও অতিধনীদের আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা সমতার দাবি। শ্রীলঙ্কার রাজাপক্ষ সরকার গত বছর দামী গাড়ি থেকে শুরু করে ইউরিয়া সার — সবকিছুর আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সমতার দাবি হল — দামী গাড়ি, দামী গয়না — এসব আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। ইউরিয়া আমদানি বহাল রাখা।
৭) আন্দোলনের চাপে ভাই মাহিন্দার পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি গোটাভায়া রাজাপক্ষ বলেছে, রাষ্ট্রপতি (নির্বাচিত ওই দেশে) -র কার্যকরী ক্ষমতা বা এক্সিকিউটিভ পাওয়ার কমিয়ে সংসদের কার্যকরী ক্ষমতা বাড়াবে। কিন্তু তা ক্ষমতার পরিসরে রদবদল বা “বিকেন্দ্রীকরণ”। প্রয়োজন জনতার পরিসরকে শক্তিশালী করা। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ইস্যুতে আঞ্চলিক ও দেশজোড়া গণভোট এবং তার ফলাফল-কে সরকারকে মানতে বাধ্য করার সাংবিধানিক স্বীকৃতি — এইভাবে জনতার পরিসর শক্তিশালী হতে পারে।
আন্দোলনকারীরা নিশ্চয়ই তাদের মত করে ভাবছে। তবুও এই দাবিগুলো ওদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের সকলের মাঝেও এটা ছড়াতে হবে।
পড়লাম। বিদ্রোহের পরবর্তী ভাবনা খুব স্পষ্ট হলনা। শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, উত্থানের প্রেক্ষাপটের ইঙ্গিত আছে। কিন্তু বর্তমান দিশা অস্পষ্ট এই লেখায়। আমরা সমতার দিক থেকে কতগুলো দাবি রাখলাম। কিন্তু সিংহলী জনগণ কি ভাবছে, তার আরও বিশদ উল্লেখ হলে ভালো হত।
সিংহলী জনগণ কী ভাবছে তা কলকাতায় বসে কীভাবে জানব? কেনই বা জানার চেষ্টা করব বিশদে? যা তাদের দৈনন্দিন, জীবন্ত, তা কীভাবে আমরা কিছু তথ্য এবং কমেন্টারির মাধ্যমে জেনে ফেলতে পারি বলে ভাবব? তাদের কারোর সঙ্গে কথা বললে তার এবং তার আশেপাশের লোক কী ভাবছে সেটা আন্দাজ করা যেতে পারে। কিন্তু তা জেনে আমরা কী করব? আমরা বরং যেটা করতে পারি, শ্রীলঙ্কার সঙ্কট-কে বোঝার চেষ্টা করতে পারি, সেই সঙ্কটের একটা বর্ণনা তৈরি করতে পারি যা ক্ষমতার বয়ানের চেয়ে আলাদা। যা আমাদের এখানকার পাঠকদের ক্ষমতার বয়ানের চেয়ে অন্য বয়ানে শ্রীলঙ্কার সঙ্কটকে দেখতে সাহায্য করতে পারে। এবং কল্পনা করতে পারি আন্দোলনটির দিশার — এখানকার পাঠকদের কল্পনা উসকে দেবার জন্য। তাই না? শ্রীলঙ্কায় কী চলছে তা পেশাদার ও অপেশাদার সাংবাদিকরা নিয়মিত লিখছে, ইন্টারনেটের দৌলতে নানা মিডিয়াতে তা পাওয়া যাচ্ছে একটি ক্লিক-এই। — এই তথ্যক্ষুধার পিঠে চাপা কি আমাদের কাজ? তার জন্য পেশাদার বা অপেশাদার সাংবাদিকরা তো আছেই। আমরা তো এখানে আমাদের আদর্শের দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রীলঙ্কার সঙ্কটকে বর্ণনা করার চেষ্টা করছি।