জনসাধারণের নির্দেশমালা

দেশের ১৮তম লোকসভা গঠনের লক্ষ্যে সাধারণ নির্বাচন (২০২৪) সংগঠিত হতে চলেছে। মানুষ নির্বাচনের দিন ভোট দেবে তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য, — কোনও দলের হয়ে বা নির্দলভাবে দাঁড়ানো প্রার্থীদের মধ্যে থেকে একজনকে; সেই ভোট যে বেশি পাবে সে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি হবে। এইভাবে নির্বাচিত পাঁচশ তেতাল্লিশ জন জনপ্রতিনিধি ১৮তম লোকসভা গঠন করবে; সেই লোকসভার বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধি মিলে দল বা জোট হিসেবে গঠন করবে দেশের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী। সেই লোকসভা আগামী পাঁচ বছর ধরে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে দেশের জন্য নীতি ঠিক করবে, আইন প্রণয়ন করবে, এবং সেগুলি কার্যকর রাখবে।

কোন প্রার্থী জিতবে, কারা গড়বে সরকার, আর কে হবে প্রধানমন্ত্রী — তা আগে থেকে বলে দেওয়া যায় না।

আমরা জনসাধারণ-এর একটি অংশ, যাদের নির্বাচনের দিন একটি করে ভোট আছে। কিন্তু শুধু তা-ই নয়। গণতন্ত্রে জনসাধারণই লোকসভা ও সরকার -এর ক্ষমতার উৎস; তাই লোকসভা ও সরকারকে চ্ছ্রকী করতে হবে’ তা নির্দেশ দেওয়া জনসাধারণের এক্তিয়ার; সেই নির্দেশ লোকসভা ও সরকার পালন করছে কি না তা নজর রাখাও জনসাধারণের এক্তিয়ার। আমরা ১৮তম লোকসভার কাছে আমাদের কিছু নির্দেশ (mandate)} রাখছি।

৮ তম লোকসভার প্রতি জনসাধারণের নির্দেশমালা

১ এপ্রিল ২০২৪ এ আপডেট করা

কর্পোরেট এবং অতিধনীদের আয়ের সিংহভাগ সর্বজনীন; ওই আয়ে পঞ্চাশ শতাংশের বেশি ট্যাক্স বসিয়ে সরকারের কোষাগার অনেকটা বাড়াবে; বাড়তি অর্থ সকলের সুন্দর জীবনযাপনের ন্যুনতম চাহিদা মেটানোয় ব্যয় হবে।

  • লভ্যাংশ থেকে বার্ষিক আয় একটি মাত্রার চেয়ে বেশি হলে তার ওপর পঞ্চাশ শতাংশের বেশি হারে ট্যাক্স বসানো হবে।
  • উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির পরিমাণ একটি মাত্রার চেয়ে বেশি হলে সেই বাড়তি সম্পত্তির ওপর পঞ্চাশ শতাংশের বেশি হারে ট্যাক্স বসানো হবে।
  • কারোর একটি মাত্রার চেয়ে বেশি সম্পদ থাকলে তার ওপর পঞ্চাশ শতাংশের বেশি হারে ট্যাক্স বসানো হবে।
সবার কাজের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা যাতে থাকে, এবং কাজ যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাদবাকি দিকগুলিকে ক্ষুণ্ণ না করে; তার জন্য সংসদ সর্বদা সক্রিয় থাকবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সমস্ত শূণ্যপদে নিয়োগ হবে; সমস্ত অস্থায়ী কর্মীর স্থায়ীকরণ হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সরকারি বেসরকারি কোনও জায়গাতে একই কাজে দুই রকম বেতন যাতে না হয় তা নিশ্চিত করতে যথোপযুক্ত আইন হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সর্বোচ্চ বেতন যাতে সর্বনিম্ন বেতনের পাঁচগুণের বেশি না হয় তা নিশ্চিত হবে; এই জন্য সর্বোচ্চ বেতন কমানো এবং সর্বনিম্ন বেতন বাড়ানো — এই দুই ব্যবস্থাই নেবে সংসদ।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ ব্যবস্থা; উচ্চশিক্ষায় ভর্তি এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থা; যে কোনও ধরনের সরকারি শংসাপত্র ব্যবস্থা (যেমন জাতগত, পারিবারিক আয় ইত্যাদি) — এগুলি স্বচ্ছ হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
স্বনিযুক্ত পেশাজীবীদের আয়ের ভিত্তিতে নিম্নতর নব্বই শতাংশের এখনকার সর্বোচ্চ আয়কে সেই পেশার ন্যুনতম আয় ঘোষণা করা হবে; যাদের আয় তার কম, তাদের সরকারি আংশিক সময়ের চুক্তিভিত্তিক কাজ থেকে আয়ের ব্যবস্থা হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
স্থানীয়ভাবে ন্যুনতম রোজগারের জন্য একশ’ দিনের কাজের গ্যারান্টি বলবৎ হবে; এই কাজ শ্রমনিবিঢ়, স্থানীয় সাধারণসভা থেকে পরিকল্পিত, এবং দুর্নীতিমুক্ত হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
ষাটোর্ধ মানুষের ন্যুনতম মাসিক আয় নিশ্চিত হবে; যার নেই তাকে সরকার কোষাগার থেকে দিয়ে দেবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সরকারি কর্মী ও পারিবারিক পেনশন শেয়ার বাজারের অনিশ্চয়তা মুক্ত হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
উঁচুমানের খাদ্যশস্য, রবিশস্য, ভোজ্য তেল; রান্নার উপকরণ; পানীয় ও গৃহস্থালীর অন্যান্য কাজের জন্য পরিষ্কার জল — এগুলি সর্বজনীন হবে। অর্থাৎ, সবাই নিজের ব্যবহারেরটুকু চাইলেই পাবে; তার জন্য পয়সা দিতে লাগবে না, সরকার দেবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
বসবাসের জন্য শৌচঘর সহ দুই কামরার পাকা ঘর সর্বজনীন হবে। যে পরিবারের নেই, তারা চাইলে সরকার নিখরচায় বানিয়ে দেবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
একটি অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিম্নতর নব্বই শতাংশ পরিবারের সর্বোচ্চ মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার এখন যত ইউনিট, ততটা উচ্চমানের বিদ্যুৎ সর্বজনীন হবে। অর্থাৎ সেটুকুর জন্য দাম দিতে হবে না মানুষকে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
স্থানীয় বাস, ট্রেন, ও জলযান পরিষেবা পর্যাপ্ত ও সর্বজনীন হবে। অর্থাৎ, স্থানীয় গণপরিবহণের খরচ সরকারকে জানালে সরকার ভাড়া মিটিয়ে দেবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
একটি অঞ্চলের ইন্টারনেট ব্যবহারে নিম্নতর নব্বই শতাংশ মানুষের সর্বোচ্চ ডেটা খরচ গড়ে এখন যত ইউনিট, ততটা উচ্চমানের ইন্টারনেট ডেটা সর্বজনীন হবে। অর্থাৎ, তার দাম দিতে হবে না; সরকারকে জানালে সে করের টাকা থেকে মিটিয়ে দেবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
একটি অঞ্চলের টেলিফোন ব্যবহারে নিম্নতর নব্বই শতাংশ মানুষের সর্বোচ্চ কল এখন গড়ে যত ইউনিট, ততটা কল সর্বজনীন হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
রাষ্ট্রপুঞ্জের শিক্ষা উন্নয়ন সূচকের সর্বোচ্চ মান, অর্থাৎ মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা সর্বজনীন হবে। অর্থাৎ, যে যা-ই পড়তে চাক এই অবদি, তার জন্য তার পছন্দের ভাষায় অবৈতনিক শিক্ষার সুবন্দোবস্ত থাকবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সমস্ত প্রয়োজনীয় জেনেরিক ওষুধ সর্বজনীন হবে। অর্থাৎ, প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে তা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে; দাম সরকার মিটিয়ে দেবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সমস্ত প্রয়োজনীয় হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা এবং সার্জারি সর্বজনীন হবে। অর্থাৎ, সরকারি হাসপাতালে তা বিনামূল্যে হবে এবং অন্যান্য জায়গায় হলে খরচ সরকারকে জানালে সরকার তা মিটিয়ে দেবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
জাতভিত্তিক, লিঙ্গভিত্তিক, ভাষাভিত্তিক, এবং অঞ্চলভিত্তিক জনগণনার মাধ্যমে মানুষের পারিবারিক সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা জেনে নেবে সরকার; এর ওপর দাঁড়িয়ে সামাজিক-অর্থনৈতিক সমতামুখী নানা ধরনের ভাতা, পরিষেবা ও সংরক্ষণের বন্দোবস্ত করবে; সংরক্ষণের ঊর্ধসীমা তুলে দেবে; দশ বছর বাদে জনগণনার মাধ্যমে অবস্থার পুনর্মূল্যায়ন ও বন্দোবস্তের পুনর্বিন্যাস করবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সমস্ত প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের ন্যুনতম দাম নির্ধারণ হবে, যার নিচে চাষিদের কাছ থেকে তা কেনা বেআইনি ঘোষণা হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
ছোট্ট সংস্থা বাদে সমস্ত সরকারি বেসরকারি কারখানা ও সংস্থায় নির্বাচিত কর্মী ইউনিয়ন বাধ্যতামূলক হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সরকারি বেসরকারি সমস্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়ন বাধ্যতামূলক হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
লোকসভা থেকে পঞ্চায়েত, অফিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে ছাত্র ইউনিয়ন — মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত হবে; জামানত জমা রাখা তুলে দেওয়া হবে; কোনও নির্বাচনেই প্রার্থী পিছু খরচ আয়ের দিক থেকে নিম্নতর নব্বই শতাংশ নির্বাচকমণ্ডলীর সর্বোচ্চ মাসিক আয়ের চেয়ে বেশি হবে না; এই সীমা কড়াভাবে বলবৎ হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
স্থানীয় এবং বিশ্বব্যাপী দূষণ কমানোর আইন হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
শহরের পরিবেশের মধ্যে গাছপালা, উদ্যান, জলাশয় সহ প্রাকৃতিক পরিসর রক্ষা ও বাড়ানোর আইন হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
নদী হ্রদ খাল বিল পুকুর ইত্যাদি জলাশয়, গ্লেসিয়ার, বুগিয়াল, সৈকত, মোহনা, নদীখাত, টিলা এবং বন বাঁচানোর জন্য আইন হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
জৈব কৃষিজাত পণ্যে ভর্তুকি দিয়ে তার দাম সিনথেটিক কৃষিজাত পণ্যের সমান করা হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সমস্ত জায়গায় সাইকেল নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হবে; সাইকেল, রিক্সা, ও ছোট মোটরচালিত হালকা ধীরগতির গাড়ির জন্য সব বড়ো রাস্তায় আলাদা লেন হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
বিচারের আগেই মানুষকে অপরাধী সাব্যস্ত করে দিয়ে বলা, এবার তুমি নিজেকে আইনের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ করো — এই ধরনের আইনের ধারাগুলি বাতিল হবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
দেশের মানুষের নানারকম যৌথতা, বিশ্বাস, আচার, আচরণ, সংস্কৃতি তথা যাপনের বৈচিত্র্য ও স্বকীয়তা যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে তার জন্য সংসদ সচেষ্ট থাকবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]
সমস্ত রাজ্য সরকার ও সাংবিধানিক সংস্থা; অন্যান্য সমস্ত নির্বাচিত সংস্থা; বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, মিডিয়া, ও উচ্চশিক্ষার পরিসরগুলি — এদের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা যাতে অক্ষুন্ন থাকে তার জন্য সংসদ সচেষ্ট থাকবে।
  • [এখানে তালিকা হিসেবে সংযোজনগুলি যুক্ত হবে]

সাধারণ নির্বাচনে একশ’ কোটি ভোটদাতা। তার তুলনায় এই নির্দেশমালা আংশিক। এই তালিকায় নতুন সংযোজন চলতে থাকবে। এই নির্দেশমালায় সংযোজনের জন্য নিচে কমেন্ট করুন।

2 thoughts on “জনসাধারণের নির্দেশমালা

  1. Souvik Ghose

    এই বিষয়ে আমার মূল বক্তব্য হল কোথায় এই কথাগুলো সাধারণ ভাবে যে কথাগুলো বলা হয়ে থাকে এবং রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে নির্বাচনের সময় আসরে নেমে পড়ে তার চাইতে আলাদা সেটা খুব ভাল করে সামনে আনা দরকার। বিস্তারিত পড়ার জন্য আলাদা মেটেরিয়াল আছে, হয়তো যারা এই উদ্যোগের সাথে আছি তারা কম বেশি তফাৎ টা ধরিয়ে দিতে পারবো। কিন্তু সবাই মূল লেখাটা পড়বেন না, সবার পক্ষে আলোচনাও করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে যেখানে আমাদের কোনো সংগঠন বা দল নেই। সেক্ষেত্রে মনে হতে পারে কম বেশি এসব কথা প্রায় সব দল, বিশেষত বামদলগুলো বলছে, তাই কোনো একটা উপায়ে এই তফাৎ এবং সেই তফাৎ থাকার কারণে এই লেখার আলাদা গুরুত্ব কি সেটা সামনে আনতে হবে।

    Reply
  2. Souvik Ghose

    সর্বজনীন শিক্ষা নিয়ে একটা ভাবনা।।

    প্রাথমিক শিক্ষা কতদিনের? প্রাথমিক শিক্ষা কতদিনের এটা নিয়ে বিতর্ক আছে। একটা সহজ যুক্তি হল যে বয়সে একটি ছেলে বা মেয়ে সাবালক হয়, ভোটাধিকার ইত্যাদি অর্জন করে তার আগে পর্যন্ত পুরো শিক্ষা হবে প্রাথমিক। মোটামুটি ভাবে এটা বারো ক্লাস পর্যন্ত শিক্ষা। এটা আমার কাছে বেশ যুক্তি যুক্ত একটা ব্যাপার, তবে অলঙ্ঘনীয় কিছু নয়। এই প্রাথমিক শিক্ষাটা কিন্তু ভাল ভাবে বেঁচে থাকার জন্য একরকম ন্যূনতম শর্তের মত। এর মাধ্যমে ছেলেটি বা মেয়েটি লিখে, পড়ে ও বলে কমিউনিকেট করতে শেখে। যুক্তির প্রয়োগ করতে শেখে। আধুনিক সমাজে বেঁচে থাকার আবশ্যিক স্কিলের মতো। সময়ের শিক্ষার যাবতীয় খরচ সরকারের নেওয়া জরুরি। এর পরের ধাপটা হল পেশাগত শিক্ষা, যেখানে কেউ গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে। তার পরের অংশটা উচ্চশিক্ষা। এগুলোর সুযোগ থাকা নিশ্চয়ই জরুরি এবং আমরা চাইবো সেই খরচও সরকার বহন করুক, কিন্তু প্রথমের অংশটা না হলেই নয়। যে ছেলেটি বড় হয়েছে, জীবনে চলতে সক্ষম তাকে কিছুটা দায়িত্ব দেওয়া যায়। আমি যদি সাবালক সকলের রোজগার করা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে শিক্ষার বাকি অংশটা সম্পূর্ন বিনামূল্যে করা প্রয়োজনীয় নয়। এখন তেমন মনে হচ্ছে কারণ উত্তরাধিকার আইন এবং বিদ্যমান আর্থিক অসমতা। বাবা মা তার সাবালক ছেলের পড়াশোনার খরচটা দিয়ে দিচ্ছেন। এই ধরণের অসমতা দুর না হলে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সার্বজনীন করেও খুব একটা লাভ হবে না। এলিটরা এগিয়ে থাকবে। বরং আঠারো বছরের পর রোজগার, সে বৃত্তির মাধ্যমে হোক বা চাকরি ইত্যাদির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে পারলে দুটো সমস্যার ক্ষেত্রেই আমরা খানিকটা এগিয়ে যেতে পারবো এরকম আশা করা অমূলক হবে না। তার মানে এটা নয় যে সব কলেজ বেসরকারি হয়ে যাবে। একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার সরকারি বা আধা সরকারি কলেজ ইউনিভার্সিটি চাই নিশ্চয়ই থাকা দরকার যেখানে পড়াশোনা করার খরচ কম। কিন্তু রাশি রাশি সরকারি ইউনিভার্সিটি খুলে লাভ হয় না। কারণ উচ্চশিক্ষায়, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও কারিগরি প্রচুর ইনফ্রাস্ট্রাকচার দাবি করে। সেখানে সামান্য কম্প্রোমাইজ করতে গেলেও শেষ পর্যন্ত হাতে পরে থাকে একটা ডিগ্রি। বসার একটু অসুবিধে কিংবা একটু খারাপ বোর্ড দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা চলে কিন্তু ভাল ল্যাবরেটরি ছাড়া বিজ্ঞানের উচ্চশিক্ষা চলে না, যদিও চালনো হচ্ছে। এইখানে আরেকটা ব্যাপার চলে আসে। আমাদের দেশে কলেজে ভর্তি হওয়া এবং বহু চাকরির ক্ষেত্রে একটা ভীষণ অনমনীয় বয়সের উর্ধসীমা আছে। উচ্চশিক্ষা এমনকি বহু চাকরির ক্ষেত্রে এই সীমা অর্থহীন এবং কোনো কোনো সময় ক্ষতিকর। এই সীমা তুলে দিতে হবে। অন্তত অনেকটা তুলে দিতে হবে। তাতে যে শুধু আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা ছেলে মেয়েরা আরেকটা সুযোগ পাবে তাই নয়, না না কারণে কেউ পড়াশোনা থেকে একটা সাময়িক বিরতি নিতে পারেন বা নিতে বাধ্য হতে পারেন, সেটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। একই ভাবে বিষয় নির্বাচনেও স্বাধীনতা বাড়ানো দরকার। আজকাল, বিশেষ করে উচ্চতর বিজ্ঞানে প্রচুর বিষয় বিভাজনের ব্যাপারটা খুব স্পষ্ট থাকছে না। হতেই পারে ফিজিক্স নিয়ে পড়া একটি ছেলে বায়সায়েন্স এ ভাল গবেষণা করতে পারবে, এই সুযোগটা অনেক বাড়ানো দরকার। নতুন শিক্ষানীতিতে এই সব ক্ষেত্রে খানিকটা নমনীয়তা এসেছে, সেটা ভাল ব্যাপার। শিক্ষার মত একটা ব্যাপার সবসময়ই মুক্ত হবার কথা, কিন্তু সেটাই কাম্য, কিন্তু যতটা পারা যায় চারদিক দেখে এগোতে হবে, একটা রিজিড সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে নয়। সেই কারণেই মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত সার্বজনীন শিক্ষা এই রকম ম্যান্ডেট ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার আপত্তি আছে। সেই জায়গায় কাছাকাছি আমি পৌঁছব কিন্তু এই ধরনের কোনো রাস্তা দিয়ে। আমি রাফলি বললাম, এটা পারফেক্ট নয়। সোজা কথা হচ্ছে একটা সমস্যা যেহেতু আরেকটা সমস্যার সাথে জড়িয়ে থাকে তাই সবগুলো ইন্ডিপেন্ডেন্ট সমাধান করার চেষ্টা করে সুবিধে হবে না। অবশ্যই অবস্থা বদলাবে, সমাধানেও বদল আসবে সেই অনুযায়ী। শিক্ষা কে একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট কিছু হিসেবে দেখা ঠিক না, অন্তত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। এইভাবে এগোনো যেতে পারে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ন অবৈতনিক, এবং যাবতীয় খরচ সরকারের এবং আবশ্যিক। সব সরকারি স্কুলের ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ছাত্র শিক্ষক অনুপাত একই রাখা এবং বাড়ির সবচাইতে কাছের স্কুলে ছাত্রের ভর্তির অধিকার নিশ্চিত করা। আঠারো বছর হলেই রোজগারের নিশ্চয়তা এবং যে কোনো বয়সে শিক্ষায় ফিরে আসার সুযোগ। সাথে অন্তত বেশ কিছু ক্ষেত্রে চাকরিতে এবং বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগদানের বয়সের উর্ধসীমা লোপ করা। বাড়ির কাছে সরকারি স্কুল না থাকলে বেসরকারি স্কুলের খরচ সরকার দেবে।সরকারি কলেজে যদি কোনো বিষয় পড়ার সুযোগ কোনো ছাত্রের না থাকে এবং সে পড়তে চায় তাহলে বেসরকারি কলেজে পড়বে এবং সরকার খরচ দেবে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *